সিসি নিউজ : আবারও শক্তিশালী এক ভূমিকম্পে কেঁপে উঠলে সারাদেশ। রিখটার স্কেলে এ ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৬.৮। আজ বুধবার বিকাল ৪টা ৩৪ মিনিটে অনুভূত হওয়া এ শক্তিশালী ভূমিকম্পের উৎপদিত্ত স্থল ছিল মিয়ানমারের চাউক অঞ্চলে। একই সাথে কেঁপে ওঠে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল, লাওস, চীন ও থাইল্যান্ডের সংলগ্ন অঞ্চলও। অবশ্য তাৎক্ষণিকভাবে দেশের কোথাও ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি। তবে মিয়ানমারে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না সে তথ্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো প্রাথমিকভাবে জানাতে পারেনি। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার সকালেও মাঝারি পাল্লার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানায়, বুধবার বিকেল ৪টা ৩৪ মিনিট ৫৫ সেকেন্ডে উত্তরমধ্য মায়ানমারের বন্দরনগরী (নদীবন্দর) চাউক থেকে ২৪ কিলোমিটার দূরে ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে ৬ দশমিক ৮ মাত্রার এ ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের ৮৪ কিলোমিটার গভীরে। ঢাকা থেকে এটির উৎপত্তিস্থলের দূরত্ব ৩৩২ কিলোমিটার। তৎক্ষণাৎ ঢাকা ছাড়াও বন্দরনগরী চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, নেত্রকোনা, ফরিদপুর, ফেনী, সাতক্ষীরা, যশোরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত হয়। তবে দেশের কোথাও কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাননি বলেও জানান তারা।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানায়, ভূমিকম্পে ভারতের বিহার, আসাম, পশ্চিমবঙ্গ, ছত্তিশগড়সহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা কেঁপে ওঠে। কেঁপে ওঠে লাওস, চীন ও থাইল্যান্ডের ব্যাংককসহ সংলগ্ন অনেক অঞ্চল। কম্পনের ফলে কর্মস্থল থেকে খোলা ময়দান বা রাস্তায় নেমে আসে আতঙ্কিত মানুষ।
মায়ানমারের গণমাধ্যম জানায়, ভূমিকম্পে দেশটির একটি প্রাচীন মন্দিরের অনেকখানি ধসে পড়ে। চাউক এলাকায় মানুষের মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হয়। তবে তৎক্ষণাৎ কোনো হতাহতের খবর মেলেনি।এর আগে মঙ্গলবার সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে ৫ দশমিক ৩ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয় মায়ানমারে। ঢাকা থেকে ৪০৯ কিলোমিটার পূর্বে দেশটির মাওলায়েকের ৪০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে আঘাত হানা ওই ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে ঢাকাসহ দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল।
এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আর্থ অবজারভেটরির তত্ত্বাবধায়ক অধ্যাপক সৈয়দ হুয়ায়ুন আখতার জানান, এ ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকা থেকে ৫৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে মিয়ানমারের চাউক অঞ্চলে; কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠের ৮৪ কিলোমিটার গভীরে। বিকালে অফিস ছুটির আগে আগে রাজধানীর ভবনগুলো ভূমিকম্পে কেঁপে উঠলে আতঙ্ক তৈরি হয়। অনেকেই ভবন ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। দক্ষিণের বিভাগ চট্টগ্রাম এবং উত্তরের রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলাতেও ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।